
আপনি কি আপনার বাড়ি বা বাণিজ্যিক সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে আয় করছেন? তাহলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ভাড়া হতে আয় (Income from House Property) গণনার নিয়মগুলো জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে আপনি কতটুকু কর ছাড় বা বিয়োজন (Deduction) পাবেন, তা সঠিকভাবে জানলে আপনার করের বোঝা অনেকটাই লাঘব হতে পারে। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, ভাড়া আয়ের বিপরীতে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের নিয়মগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
বাড়ি ভাড়া থেকে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বিয়োজনের ভিত্তি
বাড়ি ভাড়া থেকে প্রাপ্ত মোট আয় থেকে নির্দিষ্ট কিছু খরচ বাদ দিয়ে 'নিট করযোগ্য আয়' নির্ধারণ করা হয়। মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ (Repair and Maintenance) হিসেবে করদাতাকে একটি নির্দিষ্ট হারে বিধিবদ্ধ বিয়োজন (Statutory Deduction) প্রদান করা হয়। এই বিয়োজন নির্ধারণ করা হয় সম্পত্তির বার্ষিক মূল্যের (Annual Value) ওপর ভিত্তি করে।
সম্পত্তির ধরন অনুযায়ী বিয়োজনের হার
সম্পত্তিটি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে বিয়োজনের হার ভিন্ন হয়:
- আবাসিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে (Residential): যদি গৃহ-সম্পত্তিটি থাকার উদ্দেশ্যে ভাড়া দেওয়া হয়, তবে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ হিসেবে বার্ষিক মূল্যের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) অর্থ আয় হতে বিয়োজন করা যাবে।
- বাণিজ্যিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে (Commercial): যদি সম্পত্তিটি ব্যবসা, দোকান, অফিস বা ফ্যাক্টরি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে বিয়োজনের হার হবে বার্ষিক মূল্যের ৩০% (ত্রিশ শতাংশ)।
মনে রাখবেন, আপনার প্রকৃত খরচ নির্ধারিত সীমার কম বা বেশি যাই হোক না কেন, আপনি আইন অনুযায়ী এই নির্দিষ্ট হারেই (২৫% বা ৩০%) বিয়োজন সুবিধা পাবেন।
এই বিয়োজনের মধ্যে কী কী অন্তর্ভুক্ত থাকে?
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে যে, আলাদাভাবে দারোয়ান বা বিদ্যুৎ বিলের খরচ দাবি করা যাবে কি না। মূলত এই ২৫% বা ৩০% বিয়োজনের মধ্যেই নিচের খরচগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:
- বাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ।
- পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন (WASA) বিল।
- বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ।
- সম্পত্তির পাহারাদার বা নৈশপ্রহরীর বেতন।
- অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনা খরচ।
অন্যান্য অনুমোদনযোগ্য বিয়োজনসমূহ
মেরামত খরচ ছাড়াও কিছু খরচ আপনি প্রকৃত দাবির সপক্ষে (On Actual Basis) বিয়োজন করতে পারবেন। যেমন:
- সিটি কর্পোরেশন ট্যাক্স বা পৌর কর: সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে পরিশোধিত কর।
- ভূমি উন্নয়ন কর: বার্ষিক খাজনা বা ল্যান্ড ট্যাক্স।
- গৃহ নির্মাণ ঋণের সুদ: সম্পত্তিটি কেনা বা নির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণের সুদ।
- বীমা প্রিমিয়াম: সম্পত্তির নিরাপত্তার জন্য পরিশোধিত বীমা কিস্তি।
অডিট ও আইনি বিধান
আয়কর রিটার্ন দাখিলের পর অডিট চলাকালে উপ কর কমিশনার (DCT) যাচাই করেন যে, করদাতা আয়কর আইনের ধারা ৩৮ অনুযায়ী সঠিক হারে মেরামত খরচ দাবি করেছেন কি না। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভাড়া আয়ের বিপরীতে খরচ নির্ধারণে আইনের ধারা ৩৭, ৩৮ এবং ৩৯-এর বিধানসমূহ যথাযথভাবে পালন করা বাধ্যতামূলক।