
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের গণমানুষের নেতা হিসেবে তার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ়। ২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন এবং নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করলে তার বর্ণাঢ্য পেশাগত জীবন, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যায়। আজকের ব্লগে আমরা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জীবনযাত্রার সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরবো।
সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বার্ষিক মোট আয় ১ কোটি ২২ লাখ ৭৯ হাজার ৪২৪ টাকা। এই আয়ের বিপরীতে তিনি যথাযথ আয়কর প্রদান করেছেন। রিটার্ন অনুযায়ী তার বর্তমান নিট সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৬৬ লাখ ৫২ হাজার ২১৮ টাকা। ব্যবসা, শেয়ার বাজার এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণী তিনি যথাযথভাবে নথিপত্রে উল্লেখ করেছেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আয়ের উৎস ও পেশা
সরকারি নথিপত্র এবং হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার আয়ের প্রধান উৎস ও পেশাগত পরিচয় নিম্নরূপ:
- পেশা (ব্যবসা): তিনি পেশায় একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক হিসেবে তার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা রয়েছে।
- আয়ের প্রধান খাত: তার আয়ের বড় অংশ আসে বাড়ি ভাড়া (৬.০৪ লাখ টাকা), মূলধনী লাভ বা সাইনিং মানি (৮০ লাখ টাকা) এবং শেয়ার ও ব্যাংক আমানতের লভ্যাংশ (৩৬.২৯ লাখ টাকা) থেকে।
- কৃষি খাত: কৃষি খাত থেকেও তার বার্ষিক ৪৫ হাজার টাকা আয় রয়েছে।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব। তিনি স্নাতক (বি.এ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বিবরণ
হলফনামায় উল্লিখিত তথ্য অনুসারে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ:
- অস্থাবর সম্পদ: তার নিজের নামে নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৫৯ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে তার ১ কোটি ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ৪৭০ টাকা এবং এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৮ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। তার মোট অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৯ কোটি ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫৩৩ টাকা।
- স্থাবর সম্পদ: উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ও ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ২৩ লাখ টাকার অকৃষি জমি এবং ৪টি ভবন ও ২টি অ্যাপার্টমেন্ট, যার মোট অর্জনকালীন মূল্য ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
- ব্যক্তিগত দায়-দেনা: হলফনামা অনুযায়ী তার ব্যক্তিগত কোনো ঋণ বা দায় নেই।
মামলার বিবরণ
রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অসংখ্য মামলার সম্মুখীন হতে হয়েছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অতীতে মোট ৩৪টি মামলা ছিল, যা থেকে তিনি অব্যাহতি, খালাস বা মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে আইনিভাবে মুক্তি পেয়েছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মাত্র ১টি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে।