
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ এবং সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের এই সাবেক সংসদ সদস্যকে নিয়ে জনমনে নানা কৌতূহল রয়েছে। বিশেষ করে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়ের উৎস এবং বর্তমান সম্পদের পরিমাণ নিয়ে অনেকেই জানতে আগ্রহী। ২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন এবং নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করলে তার আর্থিক ও ব্যক্তিগত জীবনের একটি স্বচ্ছ চিত্র পাওয়া যায়। আজকের ব্লগে আমরা আ ন ম এহছানুল হক মিলনের জীবনযাত্রার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবো।
সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বার্ষিক আয় ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭১ টাকা । এই আয়ের বিপরীতে তিনি ১ লাখ ৮২ হাজার ১৩৩ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন । তার আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে কৃষি, পরামর্শক ফি এবং টক-শো থেকে । তার মোট সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৩ হাজার ৩০১ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সম্পদের বিপরীতে তার ঋণ রয়েছে ২ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৩৮৮ টাকা।
এহছানুল হক মিলনের আয়ের উৎস ও পেশা
সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, মিলনের আয়ের প্রধান উৎসগুলো হলো:
- পেশা (রাজনীতি ও পরামর্শক): তিনি নিজেকে প্রধানত একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় দেন। বর্তমানে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত, যেখান থেকে তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা ।
- টক-শো ও কৃষি: টেলিভিশন টক-শো থেকে তার বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং কৃষি খাত থেকে আয় ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা । এছাড়া মৎস্য চাষ থেকে তিনি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেন যা করমুক্ত হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন।
- বাড়ি ভাড়া: বনানীর জমি থেকে ভাড়া বাবদ তার বছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় হয় ।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব এবং তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা পিএইচডি (PhD)।
অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বিবরণ
হলফনামায় উল্লিখিত তথ্য অনুসারে তার ও তার পরিবারের সম্পদের বিবরণ নিম্নরূপ:
- অস্থাবর সম্পদ (নিজ নামে): তার হাতে নগদ রয়েছে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৬ টাকা । ব্যাংকে জমার পরিমাণ ৩ লাখ ৩৬ হাজার ১৫৭ টাকা। এছাড়া তার নিজের নামে ৫০ তোলা স্বর্ণ এবং প্রায় ৯ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে।
- স্থাবর সম্পদ: তার নামে কচুয়া ও কুমিল্লায় বিভিন্ন মৌজায় কৃষি ও অকৃষি জমি রয়েছে । এছাড়া বনানীতে অকৃষি জমি ও ভবন রয়েছে।
- অস্ত্র: তার ও তার স্ত্রীর নামে মোট ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র (২টি করে) রয়েছে।
মামলার বিবরণ
এহছানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে অতীতে এবং বর্তমানে অসংখ্য মামলা রয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় দায়েরকৃত ১৩টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে আরও ১৯টি মামলা ছিল, যার অধিকাংশ থেকেই তিনি বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন।