
জহির উদ্দিন স্বপন-এর ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করলে তাঁর পেশা, আয়ের উৎস এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের একটি স্বচ্ছ চিত্র ফুটে ওঠে। এই ব্লগে আমরা জহির উদ্দিন স্বপন-এর বার্ষিক আয় এবং অর্জিত সম্পদের সঠিক তথ্যগুলো পাঠকদের জন্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবো।
সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন ও হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, জহির উদ্দিন স্বপন-এর ব্যক্তিগত বার্ষিক মোট আয় ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৩৬৪ টাকা। তাঁর আয়ের প্রধান উৎস হলো ব্যবসা এবং ঘর ভাড়া। হলফনামায় প্রদর্শিত তথ্য মতে, তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমা রয়েছে। যার বাজারমূল্য বিবেচনায় তাঁর সম্পদের প্রদর্শিত মূল্য ১ কোটি ৫২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬০ টাকা।
জহির উদ্দিন স্বপন-এর আয়ের উৎস ও পেশা
হলফনামা ও আয়কর নথিপত্রে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী তাঁর পেশাগত ও আর্থিক বিবরণ নিম্নরূপ:
- পেশা: তিনি মূলত ব্যবসার সাথে জড়িত। 'জেড ইউ এস টি ইন্টারন্যাশনাল' (ZUST International) নামক একটি প্রতিষ্ঠানের তিনি স্বত্বাধিকারী।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: তিনি এম.এস.এস (MSS) ডিগ্রিধারী।
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ
হলফনামা এবং আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী জহির উদ্দিন স্বপন-এর সম্পদের উল্লেখযোগ্য অংশ নিচে দেওয়া হলো:
- বার্ষিক আয়: ব্যবসা থেকে ১০,৮০,০০০/- টাকা, বাড়ি/এপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে ১,৬৮,০০০/- টাকা এবং ব্যাংক সুদ থেকে ৪০,৩৬৪/- টাকা। এছাড়া তাঁর স্ত্রীর বার্ষিক আয় প্রায় ৮৯ লাখ টাকা।
- অস্থাবর সম্পদ: তাঁর নিজের নামে নগদ ১ কোটি ১৪ লাখ ৭৬ হাজার ১১৫ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ৩২ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৫ টাকা রয়েছে। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমা রয়েছে ২ কোটি টাকার উপরে।
- স্থাবর সম্পদ: পৈতৃক ও ক্রয় সূত্রে প্রাপ্ত কৃষি জমির মূল্য ১ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং অকৃষি জমির মূল্য ২৫ লাখ টাকা।
- স্বর্ণালঙ্কার: নিজের ১০ তোলা এবং স্ত্রীর ৫০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে যা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত।
মামলা ও দায় সংক্রান্ত বিবরণ
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, জহির উদ্দিন স্বপন-এর বিরুদ্ধে অতীতে দুটি ফৌজদারি মামলা ছিল, যেগুলোতে তিনি ইতোমধ্যে খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় মামলা নেই। ঋণের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো ঋণ না থাকলেও, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (SFIL Finance PLC) ডিরেক্টর হিসেবে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৩ হাজার ৯১০ টাকার প্রাতিষ্ঠানিক দায় রয়েছে।