
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত মুখ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন এবং তাঁর দাখিলকৃত নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করলে তাঁর সম্পদ, বার্ষিক আয় এবং আইনি পরিস্থিতির একটি পরিষ্কার চিত্র ফুটে ওঠে। আজকের ব্লগে আমরা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পেশা, আয়ের উৎস এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সঠিক তথ্য পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরবো।
সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন (২০২৫-২৬) এবং হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বার্ষিক মোট প্রদর্শিত আয় ১ কোটি ৩৯ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৭ টাকা। তাঁর নিট সম্পদের (Net Asset) পরিমাণ ২ কোটি ১৫ লাখ ২৪ হাজার ৪৯৬ টাকা। তবে তাঁর মোট গ্রস সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৯৬ লাখ ৪ হাজার ৮৮১ টাকা। আর্থিক দায়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর মোট ৮০ লাখ ৮০ হাজার ৩৮৫ টাকার ঋণ বা দায় রয়েছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর আয়ের উৎস ও পেশা
নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর নথিপত্রে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী তাঁর পেশাগত ও ব্যক্তিগত বিবরণ নিম্নরূপ:
- পেশা: তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কোম্পানিতে পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম (অনার্স-মার্কেটিং) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
- পারিবারিক তথ্য: তাঁর পিতার নাম ড. মহিউদ্দিন (মোঃ মহিউদ্দিন মিঞা) এবং মাতার নাম মোছাঃ সালমা খাতুন। তাঁর স্ত্রীর নাম সায়মা পারভীন সিম্মি।
- ঠিকানা: তাঁর স্থায়ী ঠিকানা—মিঞা বাড়ী, গ্রাম: গুলিপেঁচা, গোপালপুর, টাঙ্গাইল। বর্তমান ঠিকানা—ধানমন্ডি, ঢাকা।
অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বিবরণ
হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সম্পত্তির বিশদ বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
- অস্থাবর সম্পদ: তাঁর ব্যবসায়িক পুঁজি বা মূলধনের পরিমাণ ১ কোটি ৮৯ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৬ টাকা। বিভিন্ন কোম্পানিতে পরিচালক হিসেবে তাঁর শেয়ারহোল্ডিং রয়েছে ৩০ লাখ টাকা এবং অংশীদারি কারবারে মূলধন রয়েছে ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫১ টাকা।
- জীবনযাত্রার ব্যয়: ২০২৫-২৬ কর বর্ষে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার ব্যয় প্রদর্শিত হয়েছে ৪৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৯৫ টাকা।
- কর পরিশোধ: তিনি উক্ত বছরে মোট ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯৬ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
মামলার বিবরণ
সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অতীতে বিপুল সংখ্যক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। হলফনামায় তিনি প্রায় ৯০টি মামলার একটি দীর্ঘ তালিকা প্রদান করেছেন। তবে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় মামলা নেই বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে দণ্ডবিধি, দ্রুত বিচার আইন এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অধীনে যেসব মামলা হয়েছিল, সেগুলোর প্রায় সবকটিতেই তিনি আদালত কর্তৃক 'খালাস' পেয়েছেন অথবা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে দায়েরকৃত এই মামলাগুলোর আইনি মোকাবিলা শেষে তিনি এখন মামলা মুক্ত।