
রাজনীতিতে পরিচিত মুখ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ ফরিদুল ইসলাম। ২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন এবং তাঁর দাখিলকৃত নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করলে তাঁর আয়ের উৎস, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং জীবনবৃত্তান্তের একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়। এই ব্লগে আমরা শেখ ফরিদুল ইসলামের পেশা, বার্ষিক আয় এবং অর্জিত সম্পদের সঠিক তথ্য পাঠকদের জন্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবো।
সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন (২০২৫-২৬) এবং হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শেখ ফরিদুল ইসলামের বার্ষিক মোট প্রদর্শিত আয় ৪২ লাখ ৯৭ হাজার ২১২ টাকা। তাঁর নিট সম্পদের (Net Wealth) পরিমাণ ৬ কোটি ৪২ লাখ ৭১ হাজার ৫৯২ টাকা। তাঁর আয়ের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যবসা, চাকরি এবং গৃহ সম্পত্তি ভাড়া।
শেখ ফরিদুল ইসলামের আয়ের উৎস
নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর নথিপত্রে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিবরণ নিম্নরূপ:
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: তিনি একজন স্নাতকোত্তর (এম.এ) ডিগ্রিধারী ব্যক্তি।
- পেশা: তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং 'Swift Freight International Ltd' এর পরিচালক হিসেবে কর্মরত।
- পারিবারিক তথ্য: তাঁর পিতার নাম শেখ আব্দুর রহমান এবং মাতার নাম সখিনা বেগম। তাঁর স্ত্রীর নাম হালিমা নুসরাত।
অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বিবরণ
হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী শেখ ফরিদুল ইসলামের সম্পত্তির বিশদ বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
- নগদ অর্থ ও ব্যাংক ব্যালেন্স: তাঁর নিজের নামে নগদ ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭ টাকা। এছাড়া তাঁর স্ত্রীর নামে ৫০ লাখ টাকা নগদ জমা রয়েছে।
- বিনিয়োগ ও সঞ্চয়: সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর বাবদ তাঁর ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৯ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে এবং বন্ড/শেয়ারে রয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৬৮ টাকা।
- স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র: তাঁর নিজের ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের এবং স্ত্রীর ৮ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার রয়েছে। এছাড়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্র রয়েছে।
- স্থাবর সম্পদ: তাঁর নামে পটুয়াখালী ও ঢাকায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার পিংক সিটিতে দুটি আবাসিক ভবন (মূল্য ১.৩৬ কোটি টাকা) এবং বনানীতে দুটি অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট (মূল্য ৩.৮৫ কোটি টাকা) উল্লেখযোগ্য।
- কৃষি ও অকৃষি জমি: বাগেরহাটের রামপালে তাঁর প্রায় ৩০০ শতাংশ কৃষি জমি এবং মূল্যবান অকৃষি জমি রয়েছে।
- কর পরিশোধ: ২০২৫-২৬ কর বর্ষে তিনি মোট ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৪৯৮ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
পারিবারিক স্বচ্ছতা ও দায়-দেনা
হলফনামা অনুযায়ী শেখ ফরিদুল ইসলামের নিজ নামে ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৪২ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর নামে ২১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪০ টাকার ব্যাংক ঋণ (HSBC) রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই এবং তিনি পূর্বে কখনও সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি।