
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে পরিচিত মুখ মো: আসাদুজ্জামান। তিনি কেবল একজন সফল আইনজীবীই নন, বরং একজন স্বচ্ছ সম্পদ ও আয়ের অধিকারী নাগরিক হিসেবেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন এবং আসন্ন নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করলে তাঁর অর্জিত সম্পদ ও আয়ের একটি স্বচ্ছ চিত্র ফুটে ওঠে। আজকের ব্লগে আমরা মো: আসাদুজ্জামান-এর সম্পদ ও আয়ের সঠিক তথ্য পাঠকদের জন্য তুলে ধরবো।
সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, মো: আসাদুজ্জামান-এর বার্ষিক মোট প্রদর্শিত আয় ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৭ টাকা । এই আয়ের বিপরীতে তিনি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ১৩৯ টাকা কর প্রদান করেছেন । নথিপত্র অনুযায়ী তাঁর মোট নিট সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৯৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩ টাকা । হলফনামা ও রিটার্নে উল্লিখিত তথ্য মতে, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী উভয়েই আয়কর প্রদানকারী এবং তাঁদের নামে থাকা অস্থাবর সম্পদের বিবরণ যথাযথভাবে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে ।
মো: আসাদুজ্জামান-এর আয়ের উৎস ও পেশা
নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর নথিপত্রে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী তাঁর পেশা ও আয়ের বিবরণ নিম্নরূপ:
- পেশা: তিনি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত আছেন ।
- আয়ের প্রধান খাত: তাঁর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হলো ব্যবসা, যেখান থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৭৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা । এছাড়া বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে তাঁর নিট আয় ১১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ।
- অন্যান্য উৎস: আইন পেশা থেকে তাঁর বাৎসরিক আয় ৮ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৬ টাকা । এছাড়া ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্র থেকে তিনি ১ লাখ ৬৭ হাজার ২০১ টাকা আয় করেন ।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি এবং তাঁর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হলো এলএল.এম (LL.M) ।
অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বিবরণ
হলফনামা অনুযায়ী মো: আসাদুজ্জামান-এর সম্পত্তির হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
- অস্থাবর সম্পদ: তাঁর নিজের নামে নগদ ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫৮২ টাকা এবং ব্যাংকে ১ কোটি ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮৬ টাকা জমা আছে । এছাড়া তাঁর নামে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ২২ লাখ টাকা মূল্যের দুটি প্রাইভেট কার রয়েছে । উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ২০ তোলা স্বর্ণালংকারও তাঁর অস্থাবর সম্পদের অন্তর্ভুক্ত ।
- স্থাবর সম্পদ: স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে তাঁর নামে পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে অর্জিত কৃষি ও অকৃষি জমি রয়েছে। এছাড়া ঢাকার উত্তরা প্রিয়াংকা সিটিতে (সেকশন-১২) তাঁর একটি আবাসিক ভবন রয়েছে, যা থেকে তিনি নিয়মিত ভাড়া পাচ্ছেন ।
- স্বচ্ছতা: হলফনামা অনুযায়ী তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপী নন ।
মামলার বিবরণ
মো: আসাদুজ্জামান-এর হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই । তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কখনোই কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হননি এবং বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বিচারাধীন নেই ।