
বাংলাদেশের রাজনীতি ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে উদীয়মান ব্যক্তিত্ব হাবিবুর রশিদ। ২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন এবং তাঁর দাখিলকৃত নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করলে তাঁর আর্থিক স্বচ্ছতা, বার্ষিক আয় এবং অর্জিত সম্পদের একটি সুনিপুণ চিত্র পাওয়া যায়। আজকের ব্লগে আমরা হাবিবুর রশিদের পেশা, আয়ের উৎস এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সঠিক তথ্য পাঠকদের সুবিধার্থে তুলে ধরবো।
সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন (২০২৫-২৬) এবং হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, হাবিবুর রশিদের বার্ষিক মোট প্রদর্শিত আয় ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৮২৭ টাকা। তাঁর নিট সম্পদের (Net Wealth) পরিমাণ ১ কোটি ৭৪ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩২ টাকা। তাঁর এই সম্পদের বড় একটি অংশ নগদ অর্থ এবং ব্যবসায়িক মূলধন হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে। আর্থিক দায়ের ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য কোনো ঋণের তথ্য নথিতে পাওয়া যায়নি।
হাবিবুর রশিদের আয়ের উৎস ও পেশা
নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর নথিপত্রে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী তাঁর পেশাগত ও ব্যক্তিগত বিবরণ নিম্নরূপ:
- পেশা: তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী (সরবরাহকারী ঠিকাদার) এবং নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করেন।
- পারিবারিক তথ্য: তাঁর পিতার নাম আবদুর রশিদ আহমেদ এবং মাতার নাম রহিমা আক্তার খাতুন।
- ঠিকানা: তাঁর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা—এইচ. রশিদ এন্টারপ্রাইজ, ২০, পূর্ব মাদারটেক, সবুজবাগ, ঢাকা।
- নির্বাচনী এলাকা: তিনি ১৮২ ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য হলফনামা দাখিল করেছেন।
অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বিবরণ
হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী হাবিবুর রশিদের সম্পত্তির বিশদ বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
- ব্যবসায়িক পুঁজি ও আর্থিক সম্পদ: তাঁর ব্যবসায়িক মূলধনের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩৮ টাকা। এছাড়া তাঁর সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ও বন্ডসহ মোট আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ৫৬ হাজার ৭১৯ টাকা।
- নগদ অর্থ ও ব্যাংক ব্যালেন্স: তাঁর হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৩ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬২ টাকা।
- স্বর্ণালংকার: তাঁর সংগ্রহে মোট ১২ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে।
- জীবনযাত্রার ব্যয়: ২০২৫-২৬ কর বর্ষে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনযাত্রার মোট ব্যয় প্রদর্শিত হয়েছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪৩৯ টাকা।
- কর পরিশোধ: তিনি উক্ত বছরে মোট ২ লাখ ৯ হাজার ৬৪৫ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
নির্বাচনী ব্যয় ও অর্থায়ন
নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য হাবিবুর রশিদ তাঁর নিজস্ব তহবিল ও ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত আয় ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তিনি নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য সম্ভাব্য ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৪০ টাকা (নথিতে '৪৬৯২,৭৪০৮' উল্লিখিত) বরাদ্দ রেখেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি কোনো আত্মীয়-স্বজন বা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে ধার বা কর্জ গ্রহণ করেননি।