
শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম একজন অভিজ্ঞ পরামর্শক ও শিক্ষক। ২০২৪-২৫ কর বছরের আয়কর রিটার্ন এবং তাঁর দাখিলকৃত নির্বাচনী হলফনামা পর্যালোচনা করলে তাঁর অর্জিত সম্পদ, আয়ের উৎস এবং আর্থিক অবস্থার একটি স্বচ্ছ চিত্র পাওয়া যায়। এই ব্লগে আমরা মোঃ শফিকুল ইসলামের পেশা, বার্ষিক আয় এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সঠিক তথ্য তুলে ধরবো।
সম্পদ ও আয়করের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
হলফনামা অনুযায়ী মোঃ শফিকুল ইসলামের বার্ষিক মোট প্রদর্শিত আয় ১০ লাখ ১২ হাজার ৮৩০ টাকা। সরকারি নথি অনুযায়ী তাঁর মোট নিট সম্পদের পরিমাণ ৪৪ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬৪ টাকা। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী জাকিয়া ফারহানা, যিনি পেশায় একজন চিকিৎসক, তাঁর বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৪১ হাজার ৮৭৫ টাকা এবং নিট সম্পদ ১২ লাখ ২৩ হাজার ৪৪৩ টাকা।
মোঃ শফিকুল ইসলামের আয়ের উৎস ও পেশাগত পরিচয়
নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর নথিপত্রে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিবরণ নিম্নরূপ:
- পেশা: তিনি বর্তমানে পেশায় একজন পরামর্শক (Consultant) এবং পূর্বে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
- আয়ের প্রধান খাত: তাঁর আয়ের প্রধান উৎস পরামর্শক ফি (৫,০২,৮৩০ টাকা) এবং টেলিভিশন টকশো থেকে প্রাপ্ত সম্মানী (১০,০০০ টাকা)।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: তাঁর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা পিএইচডি (PhD)।
- পারিবারিক তথ্য: তাঁর পিতার নাম মৃত মোঃ সিরাজ উদ্দিন খান এবং মাতার নাম মোসাঃ কানিজ ফাতিমা। তাঁর স্ত্রী জাকিয়া ফারহানা একজন চিকিৎসক।
অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বিশদ বিবরণ
হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী মোঃ শফিকুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তির বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
- অস্থাবর সম্পদ: মোঃ শফিকুল ইসলামের নামে নগদ ৪৩,২৫০ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১৬ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ টাকা জমা আছে। তাঁর ৩ লাখ ৫ হাজার টাকার শেয়ার/বন্ড এবং ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার।
- স্ত্রীর সম্পদ: তাঁর স্ত্রীর নামে নগদ ৯৪,৬৩২ টাকা এবং ব্যাংক জমা ১০ লাখ ৪৩ হাজার ৮১১ টাকা রয়েছে। এছাড়া ৮৫,০০০ টাকার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী তাঁর নামে প্রদর্শিত হয়েছে।
- স্থাবর সম্পদ: মোঃ শফিকুল ইসলামের নামে উত্তারাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অকৃষি জমি ও আবাসিক সম্পত্তি রয়েছে, যার মোট অর্জনকালীন মূল্য প্রায় ২২ লাখ ১৫ হাজার ৪২১ টাকা।
- ঋণ ও দায়: হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মোঃ শফিকুল ইসলামের ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি পারিবারিক হাত ঋণ (Loan) রয়েছে। তবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর কোনো ঋণ নেই।
মামলার বিবরণ
মোঃ শফিকুল ইসলামের হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। ইতিপূর্বে তাঁর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেগুলোর সবকটিতেই তিনি অব্যাহতি লাভ করেছেন অথবা চূড়ান্ত রিপোর্ট গৃহীত হয়েছে।