
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত সুপরিচিত ও বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি কেবল একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদই নন, বরং একজন কৃতি শিক্ষাবিদ ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও স্বীকৃত। ২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন এবং নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করলে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন এবং অর্জিত সম্পদের একটি স্বচ্ছ চিত্র ফুটে ওঠে। আজকের ব্লগে আমরা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর সম্পদ ও আয়ের সঠিক তথ্য পাঠকদের জন্য তুলে ধরবো।
সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর বার্ষিক মোট আয় ৮৩ লাখ ৯৫ হাজার ৮২ টাকা। এই আয়ের বিপরীতে তিনি ২৪ লাখ ৮২ হাজার ২৩০ টাকা কর প্রদান করেছেন এবং তাঁর মোট প্রদর্শিত নিট সম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি ৭৪ লাখ ১৯ হাজার ১৮৮ টাকা। হলফনামা ও রিটার্নে উল্লিখিত তথ্য মতে, তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা অস্থাবর সম্পদের সম্মিলিত মূল্য ১৮ কোটি ৬৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৭৬ টাকারও বেশি। তিনি তাঁর দীর্ঘ জীবনের অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ যথাযথভাবে সরকারি নথিতে উল্লেখ করেছেন।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর আয়ের উৎস ও পেশা
নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর নথিপত্রে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী তাঁর পেশা ও আয়ের বিবরণ নিম্নরূপ:
- পেশা: তিনি বর্তমানে একজন ব্যবসায়ী, তবে ইতিপূর্বে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- আয়ের প্রধান খাত: তাঁর আয়ের প্রধান উৎস হলো বাড়ি ভাড়া। রাজধানী ঢাকার গুলশান ও কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৭২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৩৪ টাকা।
- অন্যান্য উৎস: ব্যাংক জমা ও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৯ লাখ ২০ হাজার ১৩৮ টাকা। এছাড়া কৃষি খাত থেকেও তাঁর নিয়মিত বাৎসরিক আয় ১ লাখ ৮৮ হাজার ২১০ টাকা।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব। তিনি বিলেতের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ভূতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বিবরণ
হলফনামা ও রিটার্ন অনুযায়ী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর সম্পত্তির হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
- অস্থাবর সম্পদ: তাঁর নিজের নামে ব্যাংকে জমা আছে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৪ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬২ টাকা। তাঁর ব্যবহারের জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা ও ৬২ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের দুটি জিপ গাড়ি রয়েছে। এছাড়াও তাঁর নামে ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫০ হাজার টাকা মূল্যের আগ্নেয়াস্ত্র (শটগান ও রিভলবার) রয়েছে।
- স্থাবর সম্পদ: স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ঢাকার গুলশানে (রোড-৫৫, বাড়ি-২৯) ৬ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন এবং গুলশানের অন্য একটি রোডে ৫ তলা ভবন (প্লট-৪৩/বি) রয়েছে। এছাড়া কুমিল্লার দাউদকান্দি ও তিতাসে পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি এবং একাধিক বহুতল ভবন (তিতাস ভবন ও গয়েশপুর হাউস) রয়েছে।
- স্বচ্ছতা: তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপী নন এবং তাঁর হলফনামায় কোনো বড় অংকের দায়ের উল্লেখ নেই।
মামলার বিবরণ
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে ৫টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন বা তদন্তাধীন রয়েছে। এর মধ্যে আয়কর অধ্যাদেশ ও দণ্ডবিধির মামলা উল্লেখযোগ্য, যার অধিকাংশেরই কার্যক্রম উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিত রাখা হয়েছে। ইতিপূর্বে রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ১৪টি মামলা থেকে তিনি আইনগতভাবে অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন।