
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী। ২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন এবং তাঁর দাখিলকৃত নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করলে তাঁর সম্পদ, বার্ষিক আয় এবং বর্তমান আইনি পরিস্থিতির একটি স্বচ্ছ চিত্র ফুটে ওঠে। আজকের ব্লগে আমরা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের পেশা, আয়ের উৎস এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সঠিক তথ্য পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরবো।
সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন (২০২৫-২৬) এবং হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের বার্ষিক মোট প্রদর্শিত আয় ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৭০০ টাকা। তাঁর আয়কর নথিতে প্রদর্শিত নিট সম্পদের (Net Asset) পরিমাণ ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৯৪ টাকা। তাঁর বিনিয়োগের একটি বড় অংশ রয়েছে মৎস্য চাষ এবং ব্যবসায়িক খাতে।
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের আয়ের উৎস ও পেশা
নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর নথিপত্রে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী তাঁর পেশাগত ও ব্যক্তিগত বিবরণ নিম্নরূপ:
- পেশা: তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ইতিপূর্বে তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এম.এস.এস (MSS) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
- পারিবারিক তথ্য: তাঁর পিতার নাম মৃত এ. কে. এম. এ ওয়াহিদ এবং মাতার নাম মৃত রাজিয়া বেগম। তাঁর স্ত্রীর নাম মাইনুন নাহার।
- ঠিকানা: তাঁর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা—২২, সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী।
অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বিবরণ
হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সম্পত্তির বিশদ বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
- বিনিয়োগ: তাঁর মৎস্য চাষ প্রকল্পে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে।
- ব্যক্তিগত সম্পদ: তাঁর সম্পদের তালিকায় স্বর্ণালঙ্কার এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন অস্থাবর সম্পদ প্রদর্শিত হয়েছে।
- আয়কর পরিশোধ: ২০২৫-২৬ কর বছরে তিনি মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৪০ টাকা আয়কর পরিশোধ (উৎসে করসহ) করেছেন।
- জীবনযাত্রার ব্যয়: তাঁর বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয় ও পারিবারিক খরচ আয়কর নথিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। হলফনামায় প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় ফৌজদারি মামলা নেই।
নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইন, দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে মোট ৪টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ২০০৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দায়েরকৃত মামলাগুলোতে তিনি আদালত কর্তৃক 'অব্যাহতি' পেয়েছেন। ২০২৩ সালে দায়েরকৃত জি.আর ৪৪৬/২০২৩ মামলাটি থেকেও তিনি ২০২৪ সালে অব্যাহতি লাভ করেছেন, যার ফলে বর্তমানে তিনি আইনিভাবে মামলা মুক্ত।