
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত সুপরিচিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এবং সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের গণমানুষের নেতা হিসেবে তার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ়। ২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন এবং নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করলে তার বর্ণাঢ্য পেশাগত জীবন, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যায়। আজকের ব্লগে আমরা ড. তাহেরের জীবনযাত্রার সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরবো।
সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
২০২৫-২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বার্ষিক মোট আয় ৬ লাখ ৯২ হাজার ২৩৮ টাকা। এই আয়ের বিপরীতে তিনি ১২ হাজার ৩২৯ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন। রিটার্ন অনুযায়ী তার বর্তমান নিট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৮৯ হাজার ১৯২ টাকা। চিকিৎসা পেশা, শেয়ার বাজার এবং অন্যান্য বৈধ উৎস থেকে অর্জিত সম্পদের বিবরণী তিনি যথাযথভাবে নথিপত্রে উল্লেখ করেছেন।
ড. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের আয়ের উৎস ও পেশা
সরকারি নথিপত্র এবং হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার আয়ের প্রধান উৎস ও পেশাগত পরিচয় নিম্নরূপ:
- পেশা (চিকিৎসক ও ব্যবসা): তিনি পেশায় একজন এম.বি.বি.এস (MBBS) ডিগ্রিধারী চিকিৎসক। বর্তমানে তিনি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং চিকিৎসা সেবা ও ব্যবসার সাথে জড়িত।
- চাকরি হতে আয়: সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ থেকে তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
- আর্থিক সম্পদ: ব্যাংক আমানত বা লভ্যাংশ থেকে তার বার্ষিক আয় ২৩৮ টাকা।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: ড. তাহের একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এম.বি.বি.এস ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বিবরণ
হলফনামায় উল্লিখিত তথ্য অনুসারে ড. তাহেরের সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ:
- অস্থাবর সম্পদ: তার নিজের নামে নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ৫১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৭ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে তার ২২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭৫ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। তার মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭৮ লাখ ৭২ হাজার ৮২২ টাকা।
- স্থাবর সম্পদ: উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত কৃষি জমি এবং অকৃষি জমি ছাড়াও তার ৩টি ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে যার অর্জনকালীন মূল্য ২২ লাখ ১৬ হাজার ৩৭০ টাকা।
- দায়-দেনা: ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো ঋণ নেই। তবে সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে এক্সিম ব্যাংক থেকে ৩ কোটি ১৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ রয়েছে।
মামলার বিবরণ
রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলায় ড. তাহেরকে অসংখ্য মামলার সম্মুখীন হতে হয়েছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অতীতে মোট ৩৩টি মামলা ছিল, যা থেকে তিনি অব্যাহতি, খালাস বা মামলা বাতিলের মাধ্যমে আইনিভাবে মুক্তি পেয়েছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মাত্র ২টি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে।